all bangla newspaper সংকটে মার্কেটিং: বাজারে অবস্থান গ্রহণ

সংকটে মার্কেটিং: বাজারে অবস্থান গ্রহণ

-

- Advertisment -

(গত সংখ্যার পর) অবস্থান গ্রহণের সবচেয়ে ভালো সুপারিশ করেছেন Al Rises Jack Tour । তাঁরা তিনটি কৌশলের কথা সুপারিশ করেছেন। এর প্রথমটি হচ্ছে কোম্পানির মূল শক্তিটিকে মানুষের সামনে উদ্ভাসিত করা এবং সেটাকেই আরো শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে মানুষের মনে জায়গা করে নেয়া। গাড়ি ভাড়ার জগতের রানারআপ কোম্পানি আরং যেমনটি করেছিল। তারা বলেছিল, ‘We are inly number #2, so we try harder ।

কোম্পানিটি বিশ্ববাজারে তাদের দ্বিতীয় অবস্থানটাকে তাদের শক্তি হিসেবে ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরে। যেহেতু তাদের অবস্থান দ্বিতীয় অতএব তারা কঠোর পরিশ্রম করছে প্রথম হওয়ার জন্য; এমন একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত এর মধ্যে আছে। ধরা যাক, একজন পাউরুটি বিক্রেতা ঢাকার বনশ্রী এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠলো। এই পাউরুটি বিক্রেতার প্রথম কাজ হচ্ছে কেন বনশ্রী এলাকার মানুষ তাঁর কনফেকশনারীর পাউরুটি পছন্দ করে তা অনুসন্ধান করে জেনে নেয়া। সে জেনেও গেল, তাঁর পাউরুটি অনেক ‘সফট’, তাই এলাকার মধ্যে তাঁর অবস্থান প্রথম। অতএব, এই পাউরুটি বিক্রেতার কাজ হবে সম্ভব হলে পাউরুটি আরো সফট করা এবং এই পাউরুটির সফটনেসের ব্যাপারটি জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা। সুন্দরী প্রতিযোগিতায় যে প্রথম হবে (বাংলাদেশ তোমাকে খুঁজছে !)

তাঁর কাজ হচ্ছে কেন দর্শকরা তাঁকে এসএমএস এর মাধ্যমে এত বেশি ভোট দিল তা জানার চেষ্টা করা। সে জেনেও গেল; তাঁর চুলগুলো অনেক লম্বা ও সুন্দর এই জন্য তাঁকে সবাই বেশি ভোট দিয়েছে। অতঃপর এই সুন্দরীর কাজ হচ্ছে তার চুল আরো লম্বা করা এবং বিভিন্নভাবে চুল প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা। সে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রী হয় তাকে চেষ্টা চালাতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সপ্তাহে ‘ফ্যাশন শো’ এর সাথে একটি ‘লম্বা চুলের প্রতিযোগিতার’ আয়োজন করার জন্য সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা।

দ্বিতীয় কৌশলটি হচ্ছে একটি খালি জায়গা দখল করা। বিক্রেতাকে জরিপ করে বের করতে হবে ভোক্তারা কিনতে চাচ্ছে কিন্তু পাচ্ছে না , সেরকম একটি খালি জায়গা বা গ্যাপ পাওয়া গেলে সেখানে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেয়া। ভিড়ের মধ্যে না গিয়ে আলাদা থাকা গেলে সহজে অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। ইদানিংকালে বিয়ে বাড়িতে সহজে কনের উপস্থিতি দেখা যায় না। কোথাও কোথাও বিয়ের খাওয়া দাওয়া শেষ হলেও কনে এসে পৌঁছতে পারেনা। কারণ কনে বিউটি পার্লারে আটকা পড়েছে। পার্লারে লম্বা সিরিয়াল থাকায় কনের সাজগোজ বিলম্বিত হচ্ছে। এছাড়া কনের সাথে সাথে তার খালাত বোন, মামাত বোন, বিশ্ববিদ্যালয় বান্ধবীরাও মাইক্রো বাসে করে সাজতে যায়। যারা সাজতে যায় তাদেরকে বিউটি পার্লারে যাওয়ার অন্তত একদিন আগ থেকেই প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। কচি ডাবের পানি দিয়ে মুখ ধোয়া, দুধের সর মাখা, শসা কেটে চোখের উপর রেখে দেয়া, কাঁচা হলুদ বাটা লাগানো ইত্যাদি কাজ বাড়িতেই করতে হয়। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় এত কষ্ট করে সেজেও অনেকেই কারো দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে না। কারণ এদের অনেকে কনের জন্য নির্ধারিত মঞ্চে গিয়ে অবস্থান নেয়। সে বুঝতে পারে না আজকে সবাই কনেকেই দেখছে। তাছাড়া অনেক দামি শাড়ি ও গহনা পরায় কনেকে অন্যদের চেয়ে আকষণীয় দেখানোই স্বাভাবিক। সেজন্য আমার সাজেশন হচ্ছে বিয়ে বাড়িতে গিয়ে কনের মঞ্চ অথবা সুন্দরীদের ভিড়ের মধ্যে না যাওয়া। পারলে সম্পূর্ণ একটি খালি জায়গায় বসে থাকা অথবা দোতলায় চলে যাওয়া, যেখানে কেবল মাত্র ছেলেদের খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। তখন দেখা যাবে পুরো ফ্লোরে একজন মহিলা, আর সবাই তার দিকে তাকাচ্ছে। দুইদিন যাবঃ কষ্ট করে সাজাটা কাজে লাগলো।

তৃতীয় কৌশলটি হচ্ছে বর্তমান অবস্থান ভেঙে বেরিয়ে নতুন অবস্থান নেয়া। প্রায়ই দেখা যায় বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে মানুষের ধারণা সঠিক থাকে না। যেমন আমার ধারণা ছিল ডায়মন্ডের দোকানে কয়েক লক্ষ টাকা ছাড়া ঢুকে কোনো লাভ নেই। আমি কখনো ডায়মন্ডের দোকানে ঢুকতে সাহস পাই নাই। কিন্তু আমার এক শিক্ষার্থী আমার ভুল ভেঙে দেয়, সে আমাকে জানায় ডায়মন্ডের দোকানে ৫ হাজার টাকা দিয়েও কিছু একটা পাওয়া যায় (নাকফুল জাতীয়)। একই ধারণা হোটেল সোনারগাঁয়ের খাবার সম্পর্কে। বেশিরভাগ লোকেরই হোটেল সোনারগাঁয়ে ঢোকার অভিজ্ঞতা নেই। মিনিবাসে এয়ারপোর্টে আসা যাওয়ার সময় জানালা দিয়ে হোটেল সোনারগাঁ দেখেই ধারণা করে বসে আছে এই হোটেলের খাবার অনেক ব্যয়বহুল হবে। কিন্তু আসলে কি তাই? ঢাকা শহরে আরো অনেকগুণ বেশি ব্যয়বহুল খাবারের দোকান আছে। মানুষের ভুল ধারণা সোনারগাঁও হোটেলে খেতে অনেক টাকা লাগে। এই ভুলটা ভেঙে দেয়ার দায়িত্ব¡ হোটেল কর্তৃপক্ষের।

এই সব কিছুই করা হবে ক্রেতার মনে একটু অবস্থান নেয়ার জন্য। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ক্রেতার মন কি খালি আছে? আর খালি থাকলেও সেটা কত নম্বর অবস্থান। আজকাল শুনেছি ক্লাস ফোর ফাইভের ছেলে-মেয়েরাও নাকি জিজ্ঞেস করে নেয়, এই ! তুমি কি এংগেজড? একেবারে খালি মন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। পেলেও প্রথমদিকের স্থান পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। প্রথমদিকে স্থান না পেলে তৃতীয়, চতুর্থ ইত্যাদি স্থানের আসলে কোনো গুরুত্ব নেই। মানুষ প্রথম জনকেই মনে রাখে। এভারেস্টে(২৯,০৫৩ ফুট) প্রথম উঠেছিল হিলারি এবং তেনজিং (ঝরৎ ঊফসড়হফ ঐরষধৎু ধহফ ঞবহুরহম ঘড়ৎমধু- ২৯ মে, ১৯৫৩)। এরপরে কত লোক এভারেস্ট জয় করেছে। খুব কম লোকই বলতে পারবে কে বা কারা দ্বিতীয় তৃতীয় হয়েছিল। বিক্রমপুরের ব্রজেন দাস(১৯২৭-১৯৯৮) প্রথম এশিয়ান, যিনি ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছিল ।

এরপরে বহু এশিয়ান এমনকি ভারতীয় সাঁতারু ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছে এদের মধ্যে দ্বিতীয় জন কে ছিল কেউ বলতে পারবে না। অতএব, মনের জায়গাটা প্রথমদিকে হওয়াই বাঞ্ছনীয়। কিন্তু সেই জায়গা তো বহু আগেই দখল হয়ে আছে। একেবারে মইয়ের মতো, প্রত্যেক পণ্যের একটা মই আছে তাতে প্রথম -দ্বিতীয়- তৃতীয় ইত্যাদি অবস্থানগুলো সুদঢ়ভাবে আঁকড়ে আছে ঐতিহ্যবাহী কোম্পানিগুলো। একবার যদি কেউ নেতৃত্বে চলে যায় সহজে আর কাউকে ছাড় দেয় না। অনেকটা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার হওয়ার মতো। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে কোম্পানিগুলো বাজারে প্রথম- দ্বিতীয়- তৃতীয় এগুলো বিশ-ত্রিশ -পঞ্চাশ বছর যাবৎ তাদের অবস্থান ধরে রাখে। যদিও জরবং এবং ঞৎড়ঁঃ প্রথমে কেবল মাত্র তিনটি কৌশলের কথা বলেছিলেন। অবস্থা বেগতিক দেখে তারা চতুর্থ আরেকটি কৌশলের কথা বলেছেন। যাদের পক্ষে প্রতিযোগিতায় প্রথম-দ্বিতীয়- তৃতীয় হওয়ার সম্ভাবনাই নাই। তখন তারা ঘোষণা করে দেশের প্রথম শীর্ষস্থানীয় পাঁচটি বড় কোম্পানির মধ্যে আমরা অন্যতম। এটার নাম দিয়েছে এক্সক্লুসিভ ক্লাব স্ট্র্যাটিজি ।

সর্বশেষ, পজিশনিং এর ক্ষেত্রে যে ব্যাপারে সাবধান হতে হবে সেটা হচ্ছে- সন্দেহজনক অবস্থান (ফড়ঁনঃভঁষ ঢ়ড়ংরঃরড়হরহম)। কোম্পানির শক্তি এবং সামর্থ্যরে বাইরে গিয়ে কোনো কিছু দাবি করলে সেটা বিশ্বাসযোগ্য হয় না। যেমন- শতভাগ গ্যারান্টি বিফলে মূল্য ফেরত পৃথিবীর সেরা আপনার সকল সমস্যার সমাধান ইত্যাদি বক্তব্য মানুষের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর বিভিন্ন গালভরা বুলি প্রচার করে কিন্তু সে অনুযায়ী কাজ না করায় জনগণ তা বিশ্বাস করে না এবং ঐ সকল প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় প্রসার লাভ করে না।

পার্থক্যটি অবশ্যই স্বতন্ত্র্য (distinctibe) হতে হবে যা সুস্পষ্টভাবে ক্রেতারা অনুধাবন করতে পারে। এই প্রবন্ধের পাঠক অনেক পছন্দ করে, অনেক ঘোরাঘুরি করে একটি জামা কিনলেন। জামাটি এত সুন্দর যে তিনি অস্থির হয়ে গেলেন আগামীকাল সকালে কখন অফিসে যাবেন। জামাটি দেখে সবাই তাকে বাহবা দিবে। রাতে কয়েকবার ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে জামাটি পরে মহড়াও দিলেন। উত্তেজনায় ঘুমাতে পারলেন না। নতুন জামাটি পরে পরদিন অফিসে গেলেন, সারাদিন অফিস করলেন, মিটিং করলেন, অনেকের সাথেই দেখা হল কিন্তু জামাটি সম্পর্কে কেউ কোনো কথাই বলল না। তার মানে হচ্ছে এই জামাটি একটা অডিনারি জামা। এর কোনো স্বাতন্ত্র্র্য নেই। ভিন্নতাটি আগের চেয়ে অধিক সুবিধা দিতে হবে অর্থাৎ ভিন্নতাটি উন্নততর (ংঁঢ়বৎরড়ৎ)হতে হবে। ভিন্নতা আনতে গিয়ে আগের চেয়ে মান খারাপ হলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না। কেউ একজন রান্নায় ভিন্নতা আনার জন্য মাংসের সাথে কিছু ছোট মাছ, মধু এবং করোলা মিশিয়ে দিল। এতে ভিন্নতা আসবে কিন্তু এই খাবারটি আগের কোনো খাবারের চেয়ে উন্নত হবে না।

পার্থক্যটি অবশ্যই যোগাযোগের উপযুক্ত (পড়সসঁহরপধনষব) এবং চাক্ষুষ হতে হবে। একজন পানি বিক্রেতা তার পানির উপরে লিখল হালাল পানি এবং দাবি করলো এর সাথে জমজমের পানি মেশানো হয়েছে। কিন্তু সমস্যা দেখা দিবে যেহেতু পানির মধ্যে কোনো রং বা গন্ধ ব্যবহার করা যাবে না তাই হালাল এর ব্যাপারটা পুরোটাই বিশ্বাসের উপর নির্ভর করতে হবে। বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে বিনা পয়সায় পেলে সব রোগের ওষুধ হিসাবে জমজমের পানি খেলেও প্রতি বোতলের জন্য ২৫ টাকা দিয়ে কেবলমাত্র বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে কয়জন জমজমের পানি খাবে সেটা সন্দেহ আছে।

পার্থক্য যাতে প্রতিযোগীরা সহজে নকল করতে না পারে (ঢ়ৎববসঢ়ঃরাব) সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। আপনার অফিসের একজন অন্যদের থেকে আলাদা হওয়ার জন্য বঙ্গবাজার থেকে চারিদিকে বোতাম লাগানো ১০০ বোতাম যুক্ত একটি তালি দেয়া শার্ট পরে আসলো। সে হয়তো এক দিনের জন্য অন্যদের থেকে আলাদা থাকবে। কিন্তু দুই দিনের মধ্যেই অফিসের অনেকেই এই জামা কিনে নিয়ে আসবে। কারণ বঙ্গবাজারে মাত্র ২০০ টাকায় এ ধরনের বোতাম যুক্ত তালি দেয়া জামা পাওয়া যায়, এটা সবাই জানে । তবে কেউ যদি অফিসে এসে দাবি করে, আমি উচ্চাঙ্গ সংগীত শিখেছি। এটা নিশ্চিত করে বলা যায় কয়েক মাসের বা বছরের মধ্যে অফিসের আর কারো পক্ষে উচ্চাঙ্গ সংগীত শিখা সম্ভব নয়। অতএব, এই পার্থক্যটি অনেকদিন টিকে থাকবে।

পার্থক্য তৈরির সময় অবশ্যই খরচের বিষয়টি মনে রাখতে হবে। পার্থক্যটির ব্যয় ভার যেন ক্রেতাদের বহনযোগ্য হয় (ধভভড়ৎফধনষব)। অন্যান্য হোটেলের তুলনায় ভিন্নতা আনার জন্য সদরঘাট এলাকায় একটি হোটেল ঘোষণা করলো, আমাদের হোটেলের কমোড, বেসিন সবকিছু সোনার তৈরি। এতে দূর থেকে হোটেলটি দেখার আগ্রহ সৃষ্টি হলেও ব্যয় বহনের কথা বিবেচনা করে কেউ এই হোটেলে ঢুকবে না। সর্বশেষ হচ্ছে পার্থক্যটি যেন ক্রেতাদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং সে অনুযায়ী ক্রেতারা সাড়া দেয় এবং সবশেষে কোম্পানি যেন লাভবান হয় (ঢ়ৎড়ভরঃধনষব)।

(আমাদের কুমিল্লায় শহরের পূর্ব প্রান্তে ‘রূপালী সিনেমা’ নামে একটি সিনেমা হল ছিল। হলটি আমার স্মৃতি বিজড়িত এই জন্য যে এখানেই জীবনের প্রথম সিনেমা দেখেছিলাম, সুয়োরানী- দুয়োরানী। আমাদের আমলে সিনেমার নাম এমনটিই ছিল- বেহুলা সুন্দরী, রাজা সন্ন্যাসী, কুচ বরণ কন্যা, সাত ভাই চম্পা ইত্যাদি। এখনকার মতো ধর শালারে ! পালাবি কোথায়? স্বামী কেন পলাতক? বাবা কেন আসামি? এ ধরনের সিনেমা নামকরণ তখন প্রচলিত ছিল না। সেই রূপালী সিনেমা হলটি দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে মালিক সিদ্ধান্ত নিল সংস্কার করবে। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিলো পুরনো এই হলটিতে ওয়াশ রুমের দুরবস্থা। ওয়াশরুমে সব সময় এক ইঞ্চি পানি আটকে থাকতো। মালিক প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিল ওয়াশরুমটি আধুনিকায়ন করবেন। প্রথমে ওয়াশরুমটিকে দুই ভাগে ভাগ করা হলো। অত্যাধুনিক টাইলস ও ফিটিংস দিয়ে সুসজ্জিত করা হলো। পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য দুটি পৃথক দরজা করা হলো এবং দুটি দরজার একটিতে ‘পুরুষ’এবং অপরটিতে ‘মহিলা’ পিতলের উপর লিখে দেওয়া হল। সম্পূর্ণ পৃথক দুটি ওয়াশরুম, একটি পুরুষদের জন্য, অপরটি মহিলাদের জন্য। এই কাজের জন্য হল মালিক বিরাট অংকের টাকা ব্যয় করলেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দিল অনেকেইতো পড়তে জানে না। পুরুষের ওয়াশরুমে মহিলারা আর মহিলাদের ওয়াশরুমে পুরুষরা ঢুকে যাচ্ছিল।

সিনেমা হলের মালিক তখন চিত্রালী পত্রিকা থেকে দুটি ছবি, একটি রাজ্জাকের আর একটি কবরীর, কেটে দুই দরজায় লাগিয়ে দিলেন। কিন্তু তাতেও কাজ হলো না। কুমিল্লায় এমন কিছু বেয়াক্কেল পাওয়া গেল যারা রাজ্জাক-কবরীর পার্থক্য বোঝে না। রাজ্জাকের জায়গায় কবরী ঢুকছে আর কবরীর জায়গায় রাজ্জাক ঢুকছে। এই যদি হয় অবস্থা অর্থাৎ যাদের জন্য পৃথকীকরণ করা হলো তারা যদি এর তাৎপর্য অনুধাবনে ব্যর্থ হয় তাহলে এ ধরনের পৃথকীকরণ না করাই ভালো। ওয়াশ রুমের দরজা একটাই থাকবে, এতে খরচ কমে যাবে, আর যার যেখানে ইচ্ছা সেখানে ঢুকুক।)

লেখক: উপাচার্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

মানবকণ্ঠ/এইচকে 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest news

Q&A about dead suspects in California mass shooting | Latest News

WHAT PROMPTED THE GUNFIRE?Police do not have a motive for the shootings, which ended with a gun battle...

Madcap James Bond ideas that didn’t make the cut — from 007 dressing as Jesus to a David Bowie villain – Bukipress

JAMES BOND is famed for squeezing out of tight spots in pretty miraculous ways. But an eccentric idea by film...

We need to end lockdown quickly & there can be no turning back this time – Bukipress

BORIS Johnson stands on the cusp of another critical moment in his epic battle with Covid. Last April, of course,...

Kelly vs Avanesyan LIVE RESULTS: Stream, TV channel, undercard for big night of boxing at Wembley Arena – latest updates – Bukipress

JOSH KELLY faces the biggest night of his career this evening as he fights David Avanesyan for the European...
- Advertisement -

Liverpool eye Lucas Ocampos transfer but £56m release fee for Sevilla winger could be potential stumbling block – Bukipress

LIVERPOOL are reportedly interested in signing Sevilla winger Lucas Ocampos this summer. But the 26-year-old’s £56m release fee could scupper...

Ant & Dec name Saturday Night Takeaway’s angriest prank victims saying Gordon Ramsay still sends ‘chilling’ texts – Bukipress

ANT McPartlin and Dec Donnelly have revealed the stars they left shaking with rage after their elaborate wind-ups. The pair...

Must read

- Advertisement -

You might also likeRELATED
Recommended to you